
আবুহাসান (আকাশ), হাতীবান্ধা লালমনিরহাট:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এ অঞ্চলের অনেকগুলো যৌক্তিক দাবি রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন ও মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। এখানকার রাস্তা দেখে মনে হয় রাস্তা নয়, যেন সাগর। অসুস্থ রোগীর অবস্থা এখানে ওষ্ঠাগত হয়ে যায় কেন? উত্তরাঞ্চল কি সৎ মায়ের সন্তান যে তাকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করতে হবে? ইনশাআল্লাহ, উত্তরাঞ্চল দিয়েই উন্নয়নের 'বিসমিল্লাহ' করা হবে।"
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আয়োজনে হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে জনসভায় নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার ৭টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "মতলববাজদের রাজনীতির কবর রচিত হতে শুরু করেছে। এই নির্বাচন হলো স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে, তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। অনেক হয়েছে, এখন তোমরা রাজনীতি থেকে সরে যাও। রাজনীতি কোনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন বা দুর্নীতি নয়; রাজনীতির নাম আমার মায়ের গায়ে হাত দেওয়া নয়।"
দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আপনি দুর্নীতি করবেন আবার রাজনীতিও করবেন, তা তো হবে না। রাজনীতি তো নিজেই রাজা। যারা দুর্নীতি করে তারা তো মাতাল, চোর ও লুণ্ঠনকারী। তারা বিদেশে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে এবং আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমরা কথা দিচ্ছি-ওদের মুখ থেকে লুণ্ঠিত সব অর্থ বের করে আনা হবে।"
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আমরা যৌবন ও তারুণ্যদীপ্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। তরুণ যুবকরা, তোমরা কি প্রস্তুত? ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ আমরা তোমাদের হাতে তুলে দেব। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট ও দক্ষ কারিগর বানিয়ে দেশের দায়িত্ব তুলে দেব। তোমাদের পাইলটের আসনে বসাব; তোমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে আর আমরা যাত্রী হিসেবে পেছনে বসে তোমাদের জন্য দোয়া করব।"
তিস্তা নদী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "তিস্তা এ অঞ্চলের উন্নয়নের অহংকার হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি এক সাগর দুঃখের নাম। আমরা তিস্তাকে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু বানাব। কথা দিচ্ছি, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। কারও রক্তচক্ষু সহ্য করব না। আমাদের কাছে দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থই সবার আগে।"
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির আরও বলেন, "এদেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে, এবার আমাদের সুযোগ দাও। আমরা বসন্তের কোকিল নই; আমরা দুঃখে, বিপদে ও সুখে সবসময় মানুষের পাশে আছি। আমরা দেশ ছেড়ে পালাব না, মাটি কামড়ে পড়ে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। এদেশের মানুষের বুকেই আমরা আশ্রয় নিই।"
উন্নয়নের রূপরেখা দিয়ে তিনি বলেন, "আমরা উত্তরবঙ্গকে কৃষি-শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলব। এতে যেমন ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে, তেমনি সারাদেশ উপকৃত হবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। আমরা গোটা এলাকাকে শিল্পে সমৃদ্ধ করতে চাই। এজন্য আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, আমরা যেন আপনাদের ভুলে না যাই এবং আপনাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারি।"
অমুসলিমদের বিষয়ে তিনি বলেন, "অন্য ধর্মের ভাইদের আমরা চাদর দিয়ে বুকে জড়িয়ে রাখতে চাই। সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমরা একটি সুন্দর বাগান সাজাব। বিচার বিভাগ দেখবে না কে সাধারণ মানুষ আর কে প্রেসিডেন্ট; বিচার হবে নিরপেক্ষ। যারা সারাজীবন মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তারা এখন ভয় পাচ্ছে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আইন সবার জন্য সমান।"
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের যে বেতন-সম্মানী দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়। রাষ্ট্রই যেন তাদের দুর্নীতির পথে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা আগে তাদের সম্মানের সাথে বাঁচার ব্যবস্থা করব, তারপরও দুর্নীতি হলে কঠোর বিচার হবে।"
নারীদের মর্যাদা রক্ষায় তিনি বলেন, "প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও মায়েদের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। এ দেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা। তাঁদের আমরা শ্রদ্ধার আসনে বসাতে চাই। তাঁরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে দেশ গড়ায় অংশ নেবেন।" পরিশেষে, নতুন বাংলাদেশ গড়তে তিনি 'দাঁড়িপাল্লা' মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন।
সম্পাদক : মো. আতোয়ার রহমান
নিউজ কক্ষ: ০১৭২৪১৪১২৮২
ব্যক্তি /প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার জন্য বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপন কক্ষ:০১৭৯৬১৩৪০১৪
First bangla news 2024