
গাইবান্ধা ::
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভায় জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ও পৌর আইন অমান্য করে সীমানার প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র পলাশবাড়ী শাখার এর বিরুদ্ধে। সম্প্রীতি পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুর গ্রামে পিছনের জমির পায়ে চলাচলের রাস্তা (জমির আইল) এ প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে প্রশিকা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পৌর প্রশাসক ও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নিকটবর্তী জমির মালিকপক্ষ।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমান প্রশিকা এনজিওর ম্যানেজার প্রভাব খাটিয়ে পিছনের বাসিন্দাদের পায়ে চলাচলের রাস্তাটি দখল করে প্রাচী নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে পুরোনো এই পায়ে চলাচলের রাস্তাটিতে হঠাৎ প্রাচীর নির্মাণ করা হলে ভোগান্তিতে পড়ে নিকটবর্তী আবাদি জমির মালিকগন এবং বসবাসকারী। বেশ কিছু পরিবারের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষজন বর্তমানে চলাচলের রাস্তা বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
৪ এপ্রিল শনিবার দুপুরে সরেজমিনে এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেখা যায়, পৌর শহরের গৃধারীপুর গ্রামের প্রশিকা অফিস সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী প্রচুর ধানি জমি অভিমুখে পায়ে চলাচলের (আইল) রাস্তার প্রবেশমুখে রাস্তা কেটে বেস ঢালাইয়ের কাজ চলছে। পাশেই রয়েছে রড বাঁধাই করা। পাশাপাশি পূর্বের নির্ধারণ করা কাঁটাতারের বেড়া সহ সীমানা পিলার। বেস ঢালাইয়ের জন্য সিমেন্ট, পাথর ও বালুর কাজ চলমান রয়েছে।
পার্শ্ববর্তী জমিতে বসবাসকারী হরি বাবু জানান, প্রশিকা এনজিওর ম্যানেজার আমাদের চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সিমানা প্রাচীর নির্মাণের যে কাজ চলমান রেখেছে এতে আমরা বেশ ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছি ব্যাপকভাবে দুর্ভোগের পড়েছি।
ভোলা বাবু জানান,মনগড়া মত মাপযোগ করে প্রাচী নির্মাণের বিষয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেও সঠিক উত্তর পাইনি। কী করব, যারা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেয়াল করতে পারে, তারা নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীন। আমরা শুধু মুখে বলতে পারি, বাধা দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই।’
জমির মালিক ওসমান গনি বলেন, ‘যে জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি আমার জমি ছিলো এবং পার্শ্ববর্তী জমিও আমার। অতীতে পায়ে চলাচল রাস্তা ছাড়ার কথা ছিল কিন্তু বর্তমানে তাদের কথার সাথে কাজের মিল নেই।
পার্শ্ববর্তী জমির মালিক এস,এম জাহাঙ্গীর কবির জানান, পলাশবাড়ী রংপুর বাস ষ্ট্যান্ডের উত্তর পার্শ্বে গৃধারীপুর মৌজায় আমার শ্বশুর দীর্ঘদিন আগে প্রশিকা অফিসে বিক্রি করেছিলেন।জমি দলিল সম্পাদনের পূর্বে প্রশিকা অফিস যখন বাউন্ডারী প্রাচীর করিবে তখন আমাদের জমিতে যাওয়ার জন্য রাস্তা ছাড়িয়া দিয়া প্রশিকা অফিসের বাউন্ডারী প্রাচীর উঠাইবে মর্মে অঙ্গিকার করিত। বর্তমানে তা না মেনে তাদের মনগড়ামত প্রশিকা অফিসের একই দাগে আমাদের জমিতে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করিয়া দিয়ে ৪ আগষ্ট ২০২৬ ইং তারিখ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় মিস্ত্রি দ্বারা ইটের বাউন্ডারীর কাজ করিতেছে। আমরা সংবাদ পয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়া বিবাদীকে নিষেধ করলে বিবাদী আজেবাজে কথাবার্তা বলাসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদান করে। বর্তমানে বিবাদীসহ তার লোকজনরা বাউন্ডারী কাজ চালাইতেছে। আমরা সুষ্ঠু সমাধানের জন্য পৌর প্রশাসক এবং পলাশবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
এব্যাপারে প্রশিকা এনজিওর ম্যানেজার সিদ্দিকুল ইসলাম মুধা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রশিকার ক্রয়কৃত জায়গায় মাপ যোগ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছি। পায়ে চলাচলের রাস্তা এবং প্রতিবন্ধকতার কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
পলাশবাড়ী পৌর প্রশাসক সহকারী কমিশনার ভূমি আল ইয়াসা রহমান তাপাদার জানান,অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবী রাস্তা না দেওয়া হইলে অনেক পরিবার পরিজনরা উক্ত জমিসহ
আশপাশের বাড়ীতে যাতায়াত করিতে পরিব না। তারা
বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,পৌর প্রশাসক সহ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখিত, তফশিল বর্ণিত জমি মৌজা- গৃধারীপুর, জেএল নং-৭০, খতিয়ান নং-৫৮, দাগ নং-৫৮ মোট জমি ৯০ শতক।
সম্পাদক : মো. আতোয়ার রহমান
নিউজ কক্ষ: ০১৭২৪১৪১২৮২
ব্যক্তি /প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার জন্য বিজ্ঞাপন দিন
বিজ্ঞাপন কক্ষ:০১৭৯৬১৩৪০১৪
First bangla news 2024