শুক্রবার , ১৮ আগস্ট ২০২৩ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. আইন আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  4. কৃষি
  5. ক্যাম্পাস
  6. জাতীয়
  7. তথ্য ও প্রযুক্তি
  8. নির্বাচনী সংবাদ
  9. ফিচার
  10. বিনোদন
  11. মুক্ত মন্তব্য
  12. রাজনীতি
  13. সম্পাদকীয়
  14. সাক্ষাৎকার
  15. সারাদেশ

আলফ্রেড সরেন হত্যা ও বিচারহীনতায় ২৩ বছর

প্রতিবেদক
FIRST BANGLA NEWS
আগস্ট ১৮, ২০২৩ ১২:১৮ অপরাহ্ণ

বিভূতিভূষন মাহাতো নওগাঁ:

আদিবাসী ও ভূমিহীনদের ভূমির অধিকারের আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হন আলফ্রেড সরেন। বীর শহীদ আলফ্রেড সরেন ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট ভূমিদস্যুদের হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুরের ভূমিহীন মানুষের জন্য খাসজমির বন্দোবস্তের আন্দোলন করছিলেন। তিনি জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ভীমপুর ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। আলফ্রেড সরেন আদিবাসী তথা ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত প্রাণ ছিলেন যা তিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন। কিন্তু তাঁর হত্যার ২৩ বছরেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের বিচারকার্য সম্পন্ন হয়নি।

আলফ্রেড সরেনের সংগ্রাম ছিল আদিবাসী ও ভূমিহীন মানুষের অধিকারের। বাড়ির পাশের প্রায় ৯৫ একর খাস জমি ভূমিহীন ও আদিবাসীদের বন্দোবস্তের জন্য কাজ করতে গিয়ে ভূমিদস্যুদের দ্বারা নির্মমভাবে হত্যা হন। তিনি জীবন দিলেও জমির দখল হত্যাকারীদের হাতেই রয়েছে। আলফ্রেড সরেন হত্যার ২৩ বছর পার হলেও বিচার না হওয়ায় হত্যাকারীরা দাপটে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আদিবাসীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতংকে বসবাস করছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। দীর্ঘ ২৩ বছরেও বিচারকার্য সম্পন্ন করতে না পারায় রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের আদিবাসীদের অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

২০০০ সালের ১৮ আগস্ট। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর গ্রামে সেদিন সকাল ১১টায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলা শুরু হয় ১৩টি আদিবাসী পরিবারের উপর। স্থানীয় ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী হাতেম আলী ও সীতেশ ভট্টাচার্য ওরফে গদাই এর ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের তান্ডবলীলা চলতে থাকে আদিবাসী পল্লীতে। একের পর এক ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। ভাংচুর করতে থাকে বাড়িঘর। সন্ত্রাসীদের পাশবিক নির্যাতনের থেকে বৃদ্ধ, শিশু, নারী কেউই বাদ যায়নি। শিশুদের নিক্ষেপ করে পাশের পুকুরে, বৃদ্ধ ও মধ্যবয়স্কদের ফেলা হয় দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে, আলফ্রেড সরেনের বড়ভাইয়ের গর্ভবতী স্ত্রী পানসরির পেটে লাথি মেরে মেরে ফেলে গর্ভের অনাগত সন্তান। এই নির্যাতন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। চারিদিকে তখন আদিবাসীদের চিৎকার আর্তনাদ আর আগুনের লেলিহান শিখায় ভরে যায় ভীমপুরের আকাশ-বাতাস। খুনিরা খুজতে থাকে আলফ্রেড সরেনকে। আলফ্রেড সরেনের বোন ভাইকে বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছিল পাশের বাড়ির ধানের বস্তার আড়ালে। কিন্তু সেখানেও আগুন দেয় সন্ত্রাসীরা। প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেও নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি আলফ্রেড সরেন। সেদিন খুনীদের রামদা, বল্লম, চাইনিজ কুড়ালের একের পর এক আঘাত পড়তে থাকে আলফ্রেড সরেনের শরীরে। রক্তে ভিজে লাল হয়ে যায় ভীমপুর আদিবাসী পল্লীর মাটি। বোন রেবেকা সরেন মূর্তির মত দাঁড়িয়ে দেখেছে ভাইকে হত্যার দৃশ্য। অনেক আকুতি-মিনতি করেও খুনীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি আলফ্রেড সরেনের জীবন। বর্শার ফলার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে তার নিথর দেহ লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। সেই লুটিয়ে পড়া নিথর দেহ আর উঠে দাঁড়ায়নি কখনই। আর বলেনি ভূমিহীন মানুষের অধিকারের কথা। সন্ত্রাসীদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ১৩টি আদিবাসী পরিবারের ঘর। হামলায় গুরুতর আহত হয় ৩০/৩৫ জন আদিবাসী। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনঘন্টা ব্যাপি এই নারকীয় হত্যাকান্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ চললেও পুলিশ প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করেছিল সেদিন। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নওহাটা পুলিশ ফাঁড়িতে বারবার খবর দেওয়া হলেও সেদিন পুলিশ ভীমপুরের আদিবাসীদের রক্ষায় এগিয়ে যায়নি।

আলফ্রেড সরেন হত্যার ঘটনায় ছোট বোন রেবেকা সরেন বাদী হয়ে হত্যা ও জননিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। ওই মামলায় মহাদেবপুর থানা পুলিশ তদন্ত শেষে ৯১ জন আসামির নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পুলিশ কয়েকজন আসামীকে গ্রেফতারও করেছিল। নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করে। মামলার প্রধান ২ আসামি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাতেম আলী ও সীতেশ ভট্টাচার্য ওরফে গদাইসহ ৬০ জন জননিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করলে হাইকোর্ট ৩ মাসের জন্য মামলাটির স্থগিতাদেশ দেয়। এই সুযোগে আদালত থেকে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আসামীরা জামিনে বের হয়ে বিভিন্ন সময়ে আলফ্রেড সরেনের পরিবার ও সাক্ষীদের হুমকি-ধামকি দিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই অনেকেই অন্যত্র চলে গেছে ও দেশ ত্যাগ করেছে। এমনকি নিহত আলফ্রেড সরেনের স্ত্রী-সন্তানও এখন সেখানে থাকে না। নিরাপত্তার স্বার্থে তারাও স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছে।

মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নওগাঁ জেলা ও দায়রা আদালত উক্ত খাস জমির প্রায় ৯৫ একরের মধ্যে ৬৩ বিঘা জমি আলফ্রেড সরেন ও গংদের অনুকূলে বন্দোবস্ত দিলেও বর্তমানে আদিবাসীরা মাত্র ৩০ বিঘা জমি ভোগদখল করতে পারছে।

এদেশের আদিবাসীরা শুধু আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার বঞ্চনা নয়, অনেক আদিবাসী নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, ভূমি জবরদখল, উচ্ছেদের ঘটনার বিচার বঞ্চনার মধ্যেই বসবাস করছে। হত্যার ২৩ বছরেও আদিবাসী তথা আলফ্রেড সরেনের পরিবারের নিকট তাঁর হত্যার বিচার পৌঁছাতে পারেনি সেই ব্যর্থতার দায় রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার। তবুও আলফ্রেড সরেনের পরিবার ও আদিবাসীরা আশায় বুক বেঁধে আছে রাষ্ট্র একদিন ঠিকই আদিবাসীরের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে বিচার বঞ্চনার দুঃখ ঘুচাবে। আদৌ কি মিলবে চাঞ্চল্যকর আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যার ন্যায় বিচার? প্রশ্ন জনমনে।

সর্বশেষ - আইন আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত

মদনে অবৈধ ষাঁড়ের লড়াই ও জমজমাট জুয়া বন্ধ করলেন ইউএনও

পবিপ্রবি রোভারের ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান 

আলোয়-আলো’র শিশুকাননের শিক্ষা পদ্ধতি শিশুদের বিকাশে কার্যকরী: অতিরিক্ত মহাপরিচালক

গোবিন্দগঞ্জে অবরোধ,নৈরাজ্যের প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামীলীগের অবস্থান কর্মসূচী ও বিক্ষোভ মিছিল  

গোবিন্দগঞ্জে বিশপুকুর গ্রামে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

খুকৃবি ছাত্রলীগের উদ্যোগে শেখ রাসেল দিবস পালিত

লালমনিরহাট জেলা পরিষদ উপনির্বাচনে বাধা নেই; সুপ্রিম কোর্ট

সাদুল্লাপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নবযোগদাকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার এঁর মতবিনিময়

গোবিন্দগঞ্জে শামসুন্নাহার হাতেয়ামিয়া আল কোরআন এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ছিলো এই জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা- গাইবান্ধায় হুইপ গিনি এমপি