রবিবার , ২১ মে ২০২৩ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. আইন আদালত
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  4. কৃষি
  5. ক্যাম্পাস
  6. জাতীয়
  7. তথ্য ও প্রযুক্তি
  8. নির্বাচনী সংবাদ
  9. ফিচার
  10. বিনোদন
  11. মুক্ত মন্তব্য
  12. রাজনীতি
  13. সম্পাদকীয়
  14. সাক্ষাৎকার
  15. সারাদেশ

কাঁচের শহর

প্রতিবেদক
FIRST BANGLA NEWS
মে ২১, ২০২৩ ১২:২৭ অপরাহ্ণ

ছিনথীয়া ইসলাম হাবিবা, একাদশ শ্রেণি,গাইবান্ধা সরকারি মহিলা কলেজ 

আমার বন্ধু সিধু। এবার সে মাধ্যমিক দিবে। সে এক বড় শহরে বসবাস করে। সে শহরের এক হোস্টেলে থাকে। সিধু আর আমি অনেক অনেক ছোটবেলার ভালো বন্ধু। আর আমিও এবার মাধ্যমিক দিব। বাবা মা গ্রামের সরকারি স্কুলে চাকরি করে। তাই আমাকে সিধুর সাথে হোস্টেলে থাকতে দিয়েছে। ভালোই হয়েছে সিধু আর আমি আবার একসাথে। সিধু এখন যে শহরে থাকে আমি এখন সেই শহরে নতুন। তাই ও আমাকে শহরের অলি-গলি ও শহরের সব ভালো ভালো জায়গা গুলোতে ঘুরে নিয়ে বেড়ালো। যাক! মোটামুটি শহরটি দেখে ভালই লাগলো। সেদিন সিধু ও আমার দিনটা ভালই গেল। পরের দিন সকালে ঘড়ি এলামের বাজনায় ঘুম থেকে উঠি। তারপর সকালের সব কাজ শেষ করে ও নাস্তা খেয়ে সিধু আর আমি স্কুলের জন্য রওনা হলাম।তখন রাস্তা দিয়ে যেতে দেখি এক অন্ধ লোক রাস্তা পার হতে পারছে না (অনেক সময় ধরে)। আশেপাশের মানুষ লোকটার দিকে তাকাচ্ছেই না সাহায্য তো দূরের কথা। পরে আমি অন্ধ লোকটিকে রাস্তা পার করে দিলাম। পরে সিধুকে বললাম এখানকার মানুষ এরকম কেন ? সিধু বলল, এই শহরের মানুষগুলো এরকমই। সবাই স্বার্থপর।বিনা কারণে কেউ কাউকে সাহায্য করে না। সিঁদুর গল্প শুনতে শুনতে স্কুলে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাইলাম।শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে দেখলাম সবাই হইচই করছে। ওই স্কুলের বকুল স্যারকে দেখে পরে সবাই হৈচৈ বন্ধ করলো।আমাদের সবার বাংলা ক্লাস শুরু হলো।ক্লাস শেষ হওয়ার পর টিফিন হল। আমি তখন টিফিন খেতে শুরু করতে ছিলাম, আর সিধু তখন বনু চাচার (নাম) কাছের রুটি আনতে গিয়েছিল। তখন দেখলাম এক ক্ষুধার্ত ছেলের হাত থেকে কয়েকজন বদমাইশ ছেলে ছেলেটির টিফিন কেড়ে নিল। আর পরে টিফিনটি ওরা খেলো না। টিফিন টা নষ্ট করলো।অযথা ছেলেটিকে না খেতে দিয়ে ওরা চলে গেল। সে ক্ষুধার্ত ছেলেটি তখন কান্না কান্না ভাব।!আমি তখন ওর কাছে গিয়ে ওর সাথে বন্ধুত্ব করলাম। আর আমার টিফিন টা দুজনে ভাগাভাগি করে খেলাম। টিফিন শেষ। আবার ক্লাস বসলো। ক্লাস করা দুই ঘন্টা পর ক্লাস শেষ হলো এবং স্কুল ছুটি হল। তারপর সিধু আর আমি হোস্টেলে পৌঁছাইলাম। তারপর বসে হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসলাম। খাওয়া শেষ।তখন আমি একটু ঘুমাইলাম। তারপর দেখলাম, হোটেলের সবাই একসাথে থাকে। আর একটা বক্স (মোবাইল বোঝানো হয়েছে ) নিয়ে থাকে। পরে শুনলাম বক্সটার নাম নাকি মোবাইল। আর কেউ কারো সাথে বেশি কথা বলে না। আর আড্ডা তো দূরের কথা। আবার সিঁদুর কাছে শুনলাম যে তারা সবসময় শুধু নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকে। যাইহোক কিছুদিন মোটামুটি ভালই কাটছিল দিনকাল আমার। আর আজ স্কুলে বিদায় অনুষ্ঠান। তাই সবাই তৈরি হয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম। স্কুলে যেতে না যেতেই দেখি স্কুলের গেটের সামনে অনেক ভিড়। পরে কিছু লোকের কাছে থেকে সিধু আর আমি শুনলাম যে সেখানে দুটি লোক মারামারি করে নিহত হয়েছেন। ব্যাপারটা শুনে খুব অদ্ভুত হলাম। কারন আমাদের গ্রামে এরকম কিছুই হতো না। যাইহোক, এরপরে আমরা স্কুলে গেলাম। সবাই বিজয় অনুষ্ঠান পালন করলাম। তারপর চলে এসে যার যার রুমে তাই তাই চলে গেল। আমার রুমে আমি ঢুকে দেখি যে সব কিছু এলোমেলো ..আমার বিদেশ থেকে আনা ঘড়িটা ও নেই, রাখা কিছু টাকা (৭০০০০) গায়েব। মানে চুরি হয়ে গেছে।এখন আমি কিভাবে স্কুলে বেতন দেব।? সিধুকে বললাম ব্যাপারটা সিধু তখন কেমন যেন ভয়ে ভয়ে ছিল। ওকে আমি বললাম, এত ভয় ভয় কেন আছিস আমার জিনিস চুরির পর? সিধু বলে ,না রে!!!!এমনি…..!কই ভয়ে ভয়ে আছি? ? ও আরো বললো, এইরকম তো বেশিরভাগ সময় হয়ে থাকে। আমারও একটা গিটার চুরি হয়ে গিয়েছিল। কথাটা আমার একটু খটকা লাগলো। কারণ ওতো গানের অ ও বোঝেনা গিটার দিয়ে কি করবে।? তারপর আমরা অন্য বিষয় নিয়ে একটু কথা বলতে থাকলাম। কটা দিন এই শহরে থেকে মনে হলো এর চেয়ে আমার গ্রাম দেঢ়…ভালো। সেখানে পাখির ডাকে ঘুম থেকে উঠতাম। উঠেই প্রাকৃতির সেই মনোরম দৃশ্যের দেখতে পেতাম।আহা……সে যে কি শান্তি! মায়ের সুন্দর রান্না আর ভাই-বোনদের সাথে দুষ্টামি,গল্পকথা । আরো কত কি!।আর এই শহরে সকালে পাখি ডাকে না শুধু শোনা যায় গাড়ির হন। আর চারপাশে সেই ময়লার স্তুপ বড় বড় অট্টালিকা আর কিছু স্বার্থপর মানুষের ভীর । কিছুদিন কেটে গেল এই ভাবে এই শহরের।এই শহর টি যেন একটা কাচের শহর।এই শহরের সব আছে কিন্তু তাও কোথাও সুখের চিহ্ন খুজে পাওয়া যায় না।হঠাৎ একদিন আমি পুরো হতমগ্ন হয়ে গেলাম, জানতে পারলাম আমার সেই ঘুড়ি আর টাকা আর কেউ নয় আমার কাছের বন্ধু সিধুই চুরি করেছিল। এটা জেনে অনেক খারাপ লাগলো। আর সিধু আমার কাছে মাফ চাইলো। আমি কিছুক্ষণ পর আক্ষেপে ওকে ক্ষমা করে দিলাম। আর আমি তখন মনে মনে ভাবলাম এই কাচের শহরে মানুষগুলো কাঁচের মতো।কেউ কাউকে প্রিয়জন ছাড়া সাহায্য করে না। প্রিয়জন কেও ছুরির আঘাত দিতে প্রস্তুত!!!এই যে শহরে বেঁচে থাকা আমার জন্য অনেক কঠিন। তারপর ভাবলাম, এবার মাধ্যমিক শেষ করে দ্রুত এই কাচের শহর থেকে চলে যাব। এই শহরে কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। আর এই শহরে আর বেশি দিন থাকলে আমিও কাছের মানুষে পরিণত হব। তারপর মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলো!শহর থেকে নিজের গ্রামে বাবা মা এর কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। আর যাওয়ার সময় বললাম আমি, বিদায় কাঁচের শহর।!!!

সর্বশেষ - জাতীয়

আপনার জন্য নির্বাচিত

বেনাপোল পৌরসভার দায়িত্ব নিলেন মেয়র নাসির উদ্দীন

গাইবান্ধায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো পুনাক।

গোবিন্দগঞ্জ- নাকাইহাট সড়কে শাকদহ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠিত 

বেনাপোলে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ১

গোবিন্দগঞ্জে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধ বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল – অবস্থান কর্মসূচী – প্রতিবাদ পথসভা অনুষ্ঠিত

দিনাজপুরে সোসাইটি ফর দ্যা স্টাডি অব কালচার এন্ড রিলিজিয়ান সাউথ এশিয়া ৩য় আর্ন্তজাতিক ২দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন

ডাসারে সৈয়দ কামরুল হাসান পপির আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত 

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯জনের মনোনয়নপত্র দাখিল

দিনাজপু‌রে বঙ্গবন্ধু শিশু কি‌শোর মেলার জাতীয় সাংস্কৃ‌তিক প্রতি‌যো‌গিতা অনু‌ষ্ঠিত

ধাপেরহাটে বিএনপি’র মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত